আপনি কি জানেন জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট "ইউটিউব" এর জনক হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম ! জ্বী- হ্যাঁ, ইউটিউবের প্রস্ত...
আপনি কি জানেন জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট "ইউটিউব" এর জনক হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম ! জ্বী- হ্যাঁ, ইউটিউবের প্রস্তুতকর্তা তিন তরুণের অন্যতম একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ একই সঙ্গে জার্মানি ও আমেরিকার নাগরিক। ২০০৪ সালে জাওয়েদ ছিলেন ২৫ বছরের তরুণ। লেখাপড়া তখনো শেষ হয়নি। তবু ঢুকতে হলো কাজে। অনলাইন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান পেপালে চাকরি নিলেন জাওয়েদ করিম।
কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়ার পাশাপাশি চাকরি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মাস শেষে পকেট বেশ ভারী হলেও কাজটিতে কেন যেন মন লাগছিল না। নতুন কিছু করার ইচ্ছায় মনে তখন তোলপাড়। পেপালেই জুটল পেনসিলভানিয়ার চ্যাড হার্লি আর তাইওয়ানের স্টিভ চেন। হার্লি আর স্টিভেরও নতুন কিছু করার ইচ্ছা। কিন্তু কী করবেন? তাঁরা ভাবতে লাগলেন। এভাবেই পেরিয়ে গেল প্রায় এক বছর। এবার একটু নড়েচড়ে না বসলেই বুঝি নয়।
আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁরা। সেদিনই চিন্তাটা পাকা করে ফেললেন। কাজটা হবে পারস্পরিক যোগাযোগের। ভেবে দেখলেন, অনলাইনে প্রচুর সাইট আছে; কিন্তু জনপ্রিয় কোনো ভিডিও সাইট নেই। তাই একটা ভিডিও ওয়েবসাইট বানাতে হবে। সবাই সাইটটি দিয়ে ভিডিও শেয়ার করতে পারবে এবং এর জন্য কোনো টাকাও গুনতে হবে না।
নিবন্ধন ও ওয়েব ডিজাইন : ভিডিও শেয়ারিং সাইট। এর জন্য ভালো একটি নামও চাই। ঠিক করা হলো- ইউটিউব। ২০০৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ নামে একটি ডোমেইনও নিবন্ধন করলেন এই ত্রিরত্ন। এগুলো করতে গিয়ে পেপালের চাকরির অভিজ্ঞতাও বেশ কাজে লাগল। ডোমেইন নাম নিবন্ধনের পর সাইট ডিজাইনের কাজে লেগে গেলেন তিন বন্ধু। মাথায় থাকল- এটা যেন দেখতে সুন্দর হয় এবং একই সঙ্গে সোজাসাপ্টা। সময় লাগল দুই মাসেরও বেশি। দাঁড় করিয়ে ফেললেন সুন্দর একটি সাইট। এরপর শুরু হলো মূল কাজ।
প্রথম ভিডিও 'মি অ্যাট দ্য জু' : সান দিয়াগো পার্ক। সেখানে হাতিশালায় দাঁড়ানো জাওয়েদ করিম। নিজের একটি ভিডিও। নাম রাখলেন 'মি অ্যাট দ্য জু'। জাওয়েদ সেটাই প্রথম আপ করলেন ইউটিউবে। সেটা ২০০৫ সালের ২৩ এপ্রিলের কথা। ভিডিওটি ছিল মাত্র ১৯ সেকেন্ডের। এখনো ইউটিউবে রয়েছে ভিডিওটি। পরীক্ষামূলক সংস্করণ উন্মুক্ত করা হলো মে মাসে। ব্যাপক সাড়া মিলল। দিনকে দিন বাড়তেই থাকল ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যা।
ছড়িয়ে গেল সবখানে : নিজেদের তৈরি সাইটটির ব্যাপক সাড়া দেখে পরীক্ষামূলক সংস্করণ থেকে অফিশিয়ালি উন্মুক্ত করার কথা ভাবলেন তিন বন্ধু। কিন্তু এ জন্য দরকার অনেক বেশি ওয়েবসাইট হোস্টিং স্পেস। বিনিয়োগও করতে হবে প্রচুর। তাঁরা গেলেন ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বা প্রকল্প বিনিয়োগকারীদের কাছে। তরুণ তিন প্রকৌশলীর কথা শুনল স্কুইয়া ক্যাপিটালিস্ট। বিনিয়োগে রাজি হলো তারা। 'ব্রডকাস্ট ইওরসেলফ' স্লোগানে অফিশিয়ালি ইউটিউব উন্মুক্ত করা হলো নভেম্বর মাসে। আশ্চর্যজনকভাবে বাড়তে থাকল ব্যবহারকারীর সংখ্যা।
২০০৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত স্কুইয়া বিনিয়োগ করল এক কোটি ১৫ লাখ ডলার। জুলাই মাসে প্রতিদিন সাইটটিতে ৬৫ হাজার ভিডিও আপলোডের ঘোষণা দিল প্রতিষ্ঠানটি। এর মাত্র তিন মাসের মাথায় অক্টোবরে ইউটিউব কিনে নেওয়ার ইচ্ছা জানাল সার্চ জায়ান্ট গুগল। দাম উঠল ১৬৫ কোটি ডলার। চুক্তি সম্পন্ন হলো সে বছরেরই ১৩ নভেম্বর। ছয় কোটি ৪৬ লাখ ডলারের শেয়ার পেলেন জাওয়েদ করিম। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৬০০ কোটি ভিডিও দেখেছেন ব্যবহারকারীরা। ২০১১ সালে ইউটিউব এক ট্রিলিয়নবার দেখার রেকর্ড করে।
ইউটিউব করেই বসে থাকেননি তরুণ প্রকৌশলী জাওয়েদ। কাজ করেছেন আরো কিছু প্রকল্পে। ইউটিউবের পর তাঁর প্রধান আবিষ্কার পেপালে এন্টি ফ্রড সিস্টেম। অনলাইনে লেনদেনের ক্ষেত্রে এ সিস্টেমটি পেপালকে অনেক বেশি নিরাপদ করেছে। পোর্টেবল ত্রিমাত্রিক গ্রাফিক্স, সলভিং ড্যাড পাজল, থ্রিডি স্প্রিং সিমুলেশন, রোবোটিক ওয়েবক্যাম, রেডিওসিটি ইনজিন, বামপাম্পিং ডেমো, রে-ট্রেসার, লাইফ থ্রিডি, কোয়াক টু মডেল ভিউয়ারসহ বেশ কিছু প্রজেক্টের উদ্ভাবকও তিনি।
এখন ইউটিউব : শুরুর বছর থেকেই ইউটিউব ভিডিও শেয়ারিংয়ের জন্য দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। ইউটিউবের (http://www.youtube.com) বয়স এখন সাত বছর। এ সাইটে এখন প্রতি মিনিটে ৭২ ঘণ্টা ভিডিও আপলোড করা হয়! এ হিসাবে মিনিটেই তিন দিনের সমান ভিডিও আপলোড হচ্ছে ইউটিউবে। সাইটটিতে ভিডিও দেখা হচ্ছে প্রতিদিন ৪০০ কোটি। মাসে ৩০০ কোটি ঘণ্টা এ সাইটে অতিবাহিত করে ব্যবহারকারীরা। নিয়মিত ভিডিও দেখে ৮০ কোটি মানুষ।

COMMENTS